দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাজধানীর কাফরুলে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ আলী হত্যাকাণ্ডে ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে পেশাদার খুনি ভাড়া করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্তে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, অস্ত্র সরবরাহ এবং অভিযুক্তদের ভূমিকার বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।
ডিবির মিরপুর বিভাগ সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সোয়া ১১টার দিকে কাফরুল থানার ওপেক্স গার্মেন্টসের দক্ষিণ পাশের লিংক রোডের মাথায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী নিহত হন। এ ঘটনায় সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মো. মনির হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক ইউসুফকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতা অস্ত্রসহ এক সন্ত্রাসীকে আটক করে কাফরুল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে কাফরুল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তে ডিবির মিরপুর বিভাগ ও কাফরুল থানা পুলিশ শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে নাহিদ হাসান ও শাফিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া এলাকা থেকে জিয়ারুল এবং রাজধানীর মিরপুর থেকে আলী হোসেনকে আটক করা হয়।
পরে শরীয়তপুর থেকে জিহাদ মোল্লা এবং যশোরের বাগারপাড়া থেকে মাসুম বিল্লাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ছাড়া অভিযুক্ত আবির হাওলাদারকে গণপিটুনির পর স্থানীয়রা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
ডিবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানিয়েছেন, মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজ প্রতিপক্ষ হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার জন্য ২৫ লাখ টাকায় পেশাদার খুনি ভাড়া করেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুন পেশাদার খুনি হাসান, জিয়ারুল, চঞ্চল, জিহাদসহ আরও কয়েকজন ঢাকায় এসে সিএনজি হাফিজের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে তাঁরা মিরপুর-১০ এলাকার একটি হোটেলে ওঠেন এবং সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে অবস্থান নেন।
ওই সময় আবির হাওলাদারের কাছ থেকে হাফিজের ম্যানেজার নাহিদ দুটি পিস্তল গ্যারেজে নিয়ে আসেন। অস্ত্রে গুলি ভরার সময় একটি পিস্তল থেকে আকস্মিকভাবে গুলি বের হয়ে যাওয়ায় সেদিন হত্যার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়। তবে অভিযুক্তরা হাফিজুল ইসলাম বাবুর অফিস এলাকায় গিয়ে তাঁকে শনাক্ত করেন এবং অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যান।
পরে গত ২২ জুলাই সিএনজি হাফিজের নির্দেশে তারা আবার ঢাকায় আসে এবং মিরপুর-২ এলাকার একটি হোটেলে ওঠে। পরদিন সন্ধ্যায় গ্যারেজে বৈঠকের পর নাহিদের কাছ থেকে জিহাদ দুটি লোড করা পিস্তল নিয়ে একটি জিয়ারুল ও অন্যটি চঞ্চলের হাতে তুলে দেন।
এরপর জিয়ারুল, চঞ্চল, হাসান, জিহাদ, মাসুম বিল্লাহসহ কয়েকজন হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর অফিসের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় শাফিন ও আলী হোসেন ঘটনাস্থল রেকি, অভিযুক্তদের পালাতে সহায়তা এবং পুলিশের তৎপরতা সম্পর্কে তথ্য সরবরাহের দায়িত্বে ছিলেন বলে জানিয়েছে ডিবি।
ডিবি জানায়, ঘটনার রাতে হাফিজুল ইসলাম বাবু তাঁর কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। সন্দেহজনক কয়েকজনকে দেখে তাঁদের পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। একপর্যায়ে দেহ তল্লাশির চেষ্টা করলে অভিযুক্তদের একজন পিস্তল বের করে গুলি চালায়। এতে ইউসুফ আলী বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এমএস/